স্টাফ রিপোর্টার::
জামালগঞ্জ উপজেলার সদর ইউপি চেয়ারম্যান কামাল হোসেনকে দূর্ণীতির অভিযোগে বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের প্রজ্ঞাপনের আলোকে জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুশফিকীন নুর স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে ইউপি চেয়ারম্যানের পদটি শূণ্য ঘোষনা করেছেন।
ইউএনও গত বৃহস্পতিবার (২৭শে মার্চ) এই চিঠি দিলেও শুক্রবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ পায়।
বহিস্কৃত চেয়ারম্যান কামাল হোসেন ২০২২ সালের নির্বাচনে স্বতন্ত্র পার্থী হিসাবে নির্বাচন করে বিজয়ী হন। পরে তিনি বাংলাদেশ কৃষকলীগ জামালগঞ্জ উপজেলার সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুশফিকীন নুর ইউপি চেয়ারম্যানের বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতির কারনে সদর ইউনিয়ন পরিষদের ৯জন ইউপি সদস্য একটি অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব দেন। তদন্তে অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় বিষয়টি স্থানীয় সরকার বিভাগকে জানান জেলা প্রশাসক। তিনি ইউপি চেয়ারম্যান কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয় কর্তৃক অনুমোদিত সিদ্ধান্তের আলোকে ইউনিয়ন পরিষদ আইন ২০০৯ এর ৩৫ এর উপধারা (২) এর প্রদত্ব ক্ষমতাবলে ব্যবস্থা গ্রহনের আলোকে তার অপসারণের বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। তারই আলোকে এই অপরাধ মুলক কার্যক্রম পরিষদসহ জনস্বার্থ পরিপন্থি হওয়ায় তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ঠ সূত্রে জানা যায়, কর্মস্থলে অনুপস্থিত, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং ঘুষ দূর্নীতিসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে উপজেলার সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে গত বছরের ২৫শে আগষ্ট ইউনিয়নের ৯ ইউপি সদস্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এবং উপজেলা সদরে বিক্ষোভ মিছিল করেন।
লিখিত ওই অভিযোগ থেকে জানা যায়, জামালগঞ্জ সদর ইউপি চেয়ারম্যান কামাল হোসেন উপজেলা কৃষকলীগের সহ সভাপতির পদ পাওয়ায় বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতিতে জড়িয়ে পরেন। ইউনিয়ন পরিষদের সরকারী বরাদ্ধের টাকা কোনো সদস্যকে না জানিয়ে পরিষদের সিদ্ধান্ত ছাড়াই বন্টন করতেন। বিভিন্ন কর্মচারীর কাজের টাকা শ্রমিকদের নিজেদের নামে মোবাইল সিমের মাধ্যমে পরিশোধ করার কথা থাকলেও নিয়ম বহির্ভূত ভাবে জালিয়াতি করে নিজেই টাকা উত্তোলন করে আত্বসাৎ করতেন। ইউনিয়ন পরিষদের আওতাধীন দোকান পাটের ট্রেড লাইসেন্স বাবত আদায়কৃত টাকা চেয়ারম্যানের নিজস্ব তহবিলে নিয়ে আত্মাসাৎ করেন। জন্ম নিবন্ধনের সরকারী ফি ৫০ টাকা হলেও তার নিজস্বলোক দ্বারা ৪শ থেকে ৫ শত টাকা করে আদায় করতেন। এ’নিয়ে ইউপি সদস্যগন সভা করতে বললে করি করছি বলে সময় ক্ষেপন করতেন। টিউবওয়েল, ভিজিভি, ভিজিএফ এবং প্রকল্পের টাকা ইউনিয়নের সকল ওয়ার্ডে সমন্বয় না করে স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে একক ভাবে তার নিজস্ব মনগড়া মত বন্টন করতেন। সরকারী আয়ের উৎস বাসাবাড়ী থেকে ট্যাক্স আদায় করার ব্যাপারে বললে তিনি বলতেন আমি ঢাকায় আছি। ঢাকা থেকে এসে ট্যাক্স আদায় করবো। সময়মত ট্যাক্স আদায় না করার কারনে রাজস্ব থেকে ইউনিয়নবাসী বঞ্চিত হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তদন্ত করে জেলা প্রশাসক বরাবর রিপোর্ট দিলে এই সিদ্ধান্ত নেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়।
এব্যাপারে সদ্য বহিস্কৃত চেয়ারম্যান কামাল হোসেন বলেন, আমি কোন দুর্নীতি করিনি। ষড়যন্ত্রের স্বীকার হয়েছি। আমি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে একটি মহল আমার পেছনে লেগে ক্ষতি করার চেষ্টা করছে। তারা মিথ্যা নাটক সাজিয়ে এটি করেছে। আমি ইউনিয়নবাসীর কাছে বিচার চাই। ঈদের পর আত্বীয় স্বজনও ইউনিয়নবাসীকে নিয়ে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবো।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
জামালগঞ্জে দূর্নীতির অভিযোগে সদর ইউপি চেয়ারম্যান কামাল হোসেন বরখাস্ত
- আপলোড সময় : ২৯-০৩-২০২৫ ০৫:২৯:২৫ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ২৯-০৩-২০২৫ ০৫:৩২:০৯ অপরাহ্ন

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ